সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায় ভোলা-বরিশাল সেতু, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু এবং ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ৩০ জুলাই তারিখে ইংরেজি দৈনিক দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই সেতু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক সংযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে, অর্থনীতিতেও হবে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার। ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতু দুটি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে পিপিপি পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় জাপানি কোম্পানিটি এই সেতুগুলো নির্মাণে আগ্রহরে কথা জানায় বলে বাংলাদেশ সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু প্রকল্পও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
জাপানি প্রতিনিধি দল প্রকল্পটির ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা একে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর ওপর ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে সেতু নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাট খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১২টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ৯টিসহ মোট ২১ জেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা রুট।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-জাপান পিপিপি প্ল্যাটফর্ম বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়। তিনি এই প্ল্যাটফর্ম ও এর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনরায় নিশ্চিত করেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার লক্ষ্যে উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। সেইসাথে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলো দ্রুততর করা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রসার ঘটানোর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।



0Share