লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত তালিকায় লক্ষ্মীপুরে স্থান পাওয়া আরও ২৯২ জনের নিয়োগ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান বিষয়টি লক্ষ্মীপুর২৪.কম কে নিশ্চিত করেছেন।
এক রিট আবেদনের শুনানিতে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী তাসনুর বেগমসহ ৪ জন এ রিটটি করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন- অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান। তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৩ এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে, এই বিধিমালার অধীনে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পোষ্য তথা কোটাপ্রার্থী এবং বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে।
কিন্তু গত ২৪ ডিসেম্বর প্রাথমিকের ঘোষিত ফলের ক্ষেত্রে সেটা অনুসরণ করা হয়নি। তাই প্রার্থীরা হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে বিবাদী করা হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে (ডিজি)।
রিটের শুনানিতে আদালত লক্ষ্মীপুর জেলার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ফলের ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ওই বছরের ১-৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ২৪ লাখ পাঁচজন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রথম ধাপে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে, তৃতীয় ধাপে ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাস করেন।
গত ৬ অক্টোবর থেকে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাসব্যাপী সারা দেশের সব জেলায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এ পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।



0Share