সানা উল্লাহ সানু: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নে অবস্থিত টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আলিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছে। শিক্ষা, ঐতিহ্য ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি আজও জেলার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাস:
জানা যায়, দেওবন্দের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ইসলামী চিন্তাবিদ মৌলভী আব্দুর রউফ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার এনায়েতপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা বর্তমানে আবিরনগর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা নামে পরিচিত। সেই মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে অনুপ্রাণিত হন তার ছাত্র আশরাফ আলী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বড় হুজুর’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর উদ্যোগে ১৯২১ সালের ১ জানুয়ারি টুমচর ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হয় টুমচর ইসলামিয়া মাদ্রাসা, যা পরবর্তীতে কামিল পর্যায়ে উন্নীত হয়।
সাফল্য:
প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে ১৯৭১ সাল একটি বিশেষ মাইলফলক। স্বাধীনতার সেই বছরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল এই চারটি স্তরেই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিরল কৃতিত্বের নজির স্থাপন করে।পরবর্তীতে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি লাভ করে। পরে ২০১৬ সালে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়, যা উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
অবকাঠামো:
শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চর্চা ও আবাসনের সুবিধা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়ের জন্য দ্বিতল মসজিদ। দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ছাত্রাবাস। প্রধান ছাত্রাবাস হিসেবে সৈয়দ বদরুল আলম ছাত্রাবাস, আশরাফিয়া হল এবং জিয়া হল।
প্রশাসনিক তথ্য
স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানটি ‘টুমচর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা’ নামেও পরিচিত। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত এর EIIN নম্বর ১০৬৯৫৮। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৪ সালের ১ জুন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে এবং বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে পাঠদান করা হয়।
গ্রামীণ শিক্ষার বাতিঘর
গ্রামীণ পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হলেও টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে আসছে। শতবর্ষের ঐতিহ্য, একাডেমিক সাফল্য এবং ধর্মীয়-নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজও এলাকার শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।শিক্ষাবিদদের মতে, আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতেও দেশের জন্য দক্ষ, নৈতিক ও আদর্শ নাগরিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাবে।



0Share