সানা উল্লাহ সানু: চর আলেকজান্ডার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলায় অবস্থিত একটি অপরূপ ও বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। ব্রিটিশ শাসনামলে রামগতি এসিল্যান্ড অফিসে ‘আলেকজান্ডার’ নামে এক ইংরেজ ভদ্রলোক রেভিনিউ কালেকটর (Revenue Collector) পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর নামানুসারেই এই ইউনিয়ন তথা চরের নামকরণ করা হয় ‘আলেকজান্ডার’। এটি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম একটি প্রধান ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে।
২. প্রধান আকর্ষণসমূহ
-
নদীর সৌন্দর্য ও মেঘনা বেড়িবাঁধ: ২০১৪ সালে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন প্রতিরোধে সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১,৩৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সিসি ব্লকের তৈরি এই দৃষ্টিনন্দন বেড়িবাঁধটিই এখন পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। বাঁধের গায়ে আছড়ে পড়া মেঘনার ঢেউ দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন।
-
নৈসর্গিক সূর্যাস্ত ও জোয়ার-ভাটার খেলা: এই বেড়িবাঁধে দাঁড়িয়ে মেঘনা নদীর বিশাল জলরাশি এবং নদীর বুকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চারদিকের সবুজ মাঠ এবং নদীর শীতল হাওয়া দর্শনার্থীদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
-
জেলেদের জীবনসংগ্রাম ও ইলিশ ধরা: নদী বক্ষে স্থানীয় জেলেদের ডিঙি ও ট্রলার নিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখা যায়। মেঘনার তাজা ইলিশ ধরার কৌশল পর্যবেক্ষণ করা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
-
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান: হাতে কিছুটা বাড়তি সময় থাকলে পর্যটকেরা চর আলেকজান্ডারের পাশাপাশি কাছাকাছি থাকা চেয়ারম্যান ঘাট, সুবর্ণ চর, নুরু পাটোয়ারীর চর কিংবা দৃষ্টিনন্দন ‘আস্-সালাম জামে মসজিদ’ ঘুরে দেখে আসতে পারেন।
৩. যাতায়াত ব্যবস্থা
রাজধানী ঢাকা কিংবা দেশের অন্যান্য বড় শহর থেকে সড়কপথে সহজেই লক্ষ্মীপুর আসা যায়।
-
ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর: ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে যে কোন বাসে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর পৌঁছাতে সাধারণত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে।
-
লক্ষ্মীপুর থেকে চর আলেকজান্ডার: লক্ষ্মীপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে রামগতির আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধে পৌঁছানো যায়। জেলা শহর বা বাস টার্মিনাল থেকে লোকাল বাস, সিএনজি বা লেগুনায় করে এখানে যাওয়া যায়।
৪. আবাসন ও খাওয়া-দাওয়া
রামগতি ও আলেকজান্ডারে স্থানীয় সাধারণ মানের কিছু হোটেল রয়েছে। তবে উন্নত আবাসন ব্যবস্থার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের হোটেল বা গেস্ট হাউজ ব্যবহার করা উত্তম। এখানকার বাজারে মেঘনার তাজা ইলিশ ও মহিষের দধি অত্যন্ত সুস্বাদু ও বিখ্যাত, যা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
৫. পর্যটন সম্ভাবনা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
স্থানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে অনেকেই একে সমুদ্র সৈকতের সাথে তুলনা করেন। এখানে পর্যটনের এক বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে এটিকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানামুখী পরিকল্পনা ও কাজ চলছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত রিসোর্ট বা বসার স্থান তৈরি করা গেলে এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপ নিতে পারে।



0Share