সানা উল্লাহ সানু: সমাজসেবী, শিক্ষার একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রদূত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহমেদ ভূইয়ার স্বপ্ন ও উদ্যোগে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার উদয়পুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমি। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনপ্রাপ্ত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সাল থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই একাডেমিটি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
আধুনিক অবকাঠামো ও মনোরম পরিবেশ
প্রায় ৩৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা একাডেমিটির রয়েছে সাততলা একাডেমিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পৃথক আবাসিক ভবন এবং আধুনিক খেলার মাঠ। সবুজ-শ্যামল ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
একাডেমি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া দরিদ্র, মেধাবী এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা খরচে লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ফরিদ আহমেদ ভূইয়া বলেন, “ক্যাডেট কলেজের আদলে পরিচালিত এই শিক্ষায়তনে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।”
সুশৃঙ্খল শিক্ষা কার্যক্রম
একাডেমির শিক্ষা কার্যক্রম একটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে পরিচালিত হয়। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের একাডেমিতে প্রবেশ করতে হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এবং পরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক পাঠদান চলে। দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর শিক্ষার্থীরা বিশেষ পাঠ প্রস্তুতিতে অংশ নেয়। বিকেলে খেলাধুলা, নাস্তা এবং দিনের শিক্ষা কার্যক্রম শেষে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।
একাডেমির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—শিক্ষার্থীদের সকল বইপত্র প্রতিষ্ঠানেই সংরক্ষণ করা হয়, ফলে তাদের বাড়তি বই বহনের প্রয়োজন হয় না।
মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষার্থী সহায়তা
একাডেমির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিকল্পিত পাঠ্যসূচির মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষেই পাঠ সম্পন্ন করা। দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক ক্লাসের ব্যবস্থাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে আনন্দমুখর পরিবেশে পাঠদান করা হয়। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং সুস্থ বিনোদনের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতি বৃহস্পতিবার বৈকালিক খেলাধুলার পর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষামূলক প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ
একাডেমি কর্তৃপক্ষ মনে করে, একজন শিক্ষার্থীর সুষ্ঠু বিকাশে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। তাই ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফেরার পর অভিভাবকদের তাদের পড়াশোনার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন কার্যক্রম
একাডেমির উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের ব্যয় বহন করে আহমেদ আবদুর রহমান ট্রাস্ট। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুধুমাত্র ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, খাবারের খরচ ও ইউনিফর্ম বাবদ নির্ধারিত অর্থ গ্রহণ করা হয়। অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় ট্রাস্টের তহবিল থেকে পরিচালিত হয়।
শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি আধুনিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমি ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



0Share