নিজস্ব প্রতিনিধি: চন্দ্রগঞ্জ হযরত দেওয়ান শাহ মেলা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে হযরত দেওয়ান শাহ (রাঃ) এর মাজারকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা, যা প্রায় ৪৩৮ বছরের পুরোনো, যেখানে ইসলাম প্রচার করতে আসা ৩৬০ আউলিয়ার একজন হিসেবে ফকির দেওয়ান শাহ (রাঃ) আস্তানা স্থাপন করেন এবং তাঁর মাজারকে ঘিরে এই মেলা প্রতি বছর বসে যেখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি নাগরদোলা, পুতুলনাচ, গান-বাজনা ও লোকজ পণ্যের সমাহার ঘটে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেলার আড়ালে জুয়া ও অশ্লীলতার অভিযোগও পাওয়া যায়।
ফকির দেওয়ান শাহ (রাঃ): প্রায় ৪৩৮-৪৪০ বছর আগে মক্কা থেকে ইসলাম প্রচারে এসে তিনি চন্দ্রগঞ্জের রামচন্দ্রপুর গ্রামে আস্তানা গাড়েন এবং এখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাজারকে কেন্দ্র করেই এই ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনস্থলের জন্ম।
এটি একটি বহু পুরোনো মেলা, যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত, যেখানে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসেন।
মাজার প্রাঙ্গণে বার্ষিক মাহফিল ও ওরস অনুষ্ঠিত হয়, যা ভক্তদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মেলায় নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাদু প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ধরনের লোকজ পণ্য ও খেলনার দোকান বসে। মেলা উপলক্ষে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসে এবং নানা ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেলার পরিবেশ নিয়ে কিছু বিতর্ক দেখা দিয়েছে, যেখানে মেলার নামে জুয়া ও অশ্লীল কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য গত বছরও এই মেলার অনুমোদন দেওয়া হয় নি।
চন্দ্রগঞ্জ হযরত দেওয়ান শাহ মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি সুফি সাধক দেওয়ান শাহ (রাঃ) এর স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যা ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।
সপ্তাহব্যাপী বিশাল এ মেলায় কাঠের ও স্টীলের ফার্ণিসার, কুটির শিল্প সামগ্রী, মাটির তৈরী হাঁড়ি-পাতিল, বাচ্চাদের খেলনা, গৃহস্থালী সামগ্রী, কসমেটিকস, চামড়ার তৈরী জিনিসপত্র, হরেক-রকম খাবার সামগ্রী, খাবার হোটেলসহ অন্তত ৫’শ স্টলের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিভিন্ন জেলাসহ বহু দূর-দূরান্ত থেকে আগত দোকানীরা। এছাড়াও বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, যাদু প্রদর্শণীসহ হোন্ডা খেলার আয়োজন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের ফকির দেওয়ান শাহ্ (রা:)
লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিভাগে সংরক্ষিত তাজকেরাতুল আউলিয়া গ্রন্থের সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে আগত অগনিত আওলিয়ার মধ্যে ফকির দেওয়ান শাহ্ (রা:) আনুমানিক ১৬শ শতকের শেষ দিকে আরবের মক্কানগরী হতে ইসলাম প্রচারের জন্য সাবেক নোয়াখালী ও বর্তমান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে এসে আস্তানা স্থাপন করেন। আমৃত্যু তিনি চন্দ্রগঞ্জের আশপাশের এলাকায় ইসলাম প্রচারের কাজ করে যান। পরে তিনি মৃত্যু বরণ করলে স্থানীয় ভক্তগণ বর্তমান মেলা এলাকার নিকটে তাঁকে সমাহিত করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ তার সমাধি কে পরে হযরত দেওয়ানশাহ্(রাঃ)মাজার শরীফ নামে অভিহিত করেন। দেওয়ানশাহ্(রাঃ)র সমাধি এলাকায় একটি দিঘি, মসজিদ,মাদ্রসা ও এতিম খানা, লাইব্রারী, দেওয়ানশাহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিনিউটি ক্লিনিকসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে।
প্রতি বৎসর বাংলামাঘ মাসের ১ তারিখ থেকে ৭ দিন ব্যাপি বার্ষিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় দূরদুরান্ত থেকে অসংখ্য লোক আসে মাজার যিয়ারত এবং মেলা দেখার জন্য।।



0Share