তীর সংরক্ষণ বাঁধ ধসে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মেঘনা নদীর নির্মানাধীন তীর সংরক্ষণ বাঁধ ধসে লোকালয়ে জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রবল চাপে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ভাঙনের ফলে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা, অতিদ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে উপজেলার বড়খেরীর বেড়িবাঁধটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নির্মানাধীন এ বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, লোকালয়ে প্রবেশ করছে জোয়ারের পানি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নির্মানাধীন এ বাঁধটির কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।
সরেজমিনে বড়খেরী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর তীর রক্ষা বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লক না থাকায় মাটি সরে গিয়ে ৪০-৫০ ফিট বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।
বড়খেরী বেড়িবাঁধ এলাকার প্রান্ত মজুমদার জানান, নদীতে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে বেড়িবাঁধটির কয়েকটি জায়গায় নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এরআগেও এ স্থানের বাঁধটি দেবে গেছিল কিন্তু এতদিনেও তা ঠিক করা হয়নি। এখন তা ভেঙে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। লোকালয়ে পানি ঢুকে মাছের ঘের, ঘর-বাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা ডুবে গেছে।
রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা রুদ্র দাস জানান, সব জায়গায় তীর রক্ষা বাঁধের কাজ চললেও এ অংশে কাজটি থেমে আছে অনেকদিন ধরে। এ অংশে অনেক স্থানে জিও ব্যাগের অস্তিত্বও নেই, নেই সিসি ব্লক। ঝুঁকি এড়াতে বাঁধটি দ্রুত নির্মান কাজ শেষ করা প্রয়োজন। নচেৎ জোয়ারের পানিতে বারবার ভেসে যাবে বাঁধের ভিতরে থাকা গ্রামগুলো।
বড়খেরীর এ অংশে দায়িত্বে থাকা পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী আ ম ম নঈম বলেন, এলাকাগুলো আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করবো। দ্রুত নদী বাঁধের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে আগামীতে লোকালয়ে আর পানি প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকবে না।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। নদীতে তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে এমনটা হয়েছে। জরুরিভাবে বাঁধটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, বেড়িবাঁধের কয়েক জায়গায় ধস ও বেড়ীর উপরে গর্তের সৃষ্টি হয়ে বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। আশা করি পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুতই ব্যবস্থা নিবে।



0Share