খাল খনন নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। দ্য ডেইলী স্টারের সাথে এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।
খাল খনন কর্মসূচি
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের শাহপাড়া খালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নিয়ে ১৮০ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৬৬৬টি খালের ৮০০ কিলোমিটারের বেশি খনন করা হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটারের লক্ষ্য ছাড়িয়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত খাল খনন করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ্যানি বলেন, সত্তরের দশকের শেষের দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময়ের খাল খনন কর্মসূচি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধারে সহায়তা মিলবে।
তিনি বলেন, খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে কৃষকরা সেচে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় বাড়তে শুরু করবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, সঠিক পদ্ধতিতে খনন না হলে বর্ষায় অনেক খাল আবার ভরাট হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম), সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) এ বিষয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ সচল রাখা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার উপায় নিয়েও কাজ হচ্ছে। এই কর্মসূচি সফল করতে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় মানুষকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
নদী ও খালের দূষণ, বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের জলাশয় রক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচি জলাশয়ে বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন তৈরি করতে পারে।
তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে বিশ্বব্যাংক, জাইকা (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অপরিকল্পিত কালভার্ট সরিয়ে ফেলা হবে।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর অনেক খাল দখল করে বাড়িঘর, দোকানপাট ও বাজার নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাছ চাষের জন্য খালে বাঁধও দিয়েছেন। খাল খননের পাশাপাশি সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করা হবে।
এ্যানি বলেন, কিছু বাধা আসতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করতেই হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।



0Share